শিলিগুড়ি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি মনোরম গন্তব্য। এই শহরটি পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ এর তালিকায় রয়েছে।
অবিশ্বাস্যভাবে এই সুন্দর শহরের আদিম সৌন্দর্য আমাদের ব্যস্ত শহর-জীবন থেকে একটি অবকাশ প্রদান করে। তাই এই স্থান সমস্ত দেশ থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
এই নিবন্ধে, আপনি শিলিগুড়ির কাছাকাছি যে জায়গাগুলিতে ঘুরে আস্তে পারেন সেগুলি সম্পর্কে জানতে পারবেন,
- বেঙ্গল সাফারি পার্ক
- করোনেশন ব্রিজ
- হংকং মার্কেট
- ইসকন শিলিগুড়ি
- সেপাই ধুরা চা বাগান
- সালুগাড়া মনাস্ট্রি
- দুধিয়া
আসুন এই জায়গাগুলির প্রতিটি বিস্তারিত ভাবে দেখে নেওয়া যাক।
১. বেঙ্গল সাফারি পার্ক
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ১০ কিলোমিটার |
| সময় | সকাল ৯:০০ টা – সন্ধে ৬:০০ টা |
| টিকেট মূল্য | Rs. ৫০ – ৮০০ (ক্রিয়াকলাপ উপর নির্ভর করে) |
বেঙ্গল সাফারি পার্ক শিলিগুড়ির কাছে অবস্থিত একটি সুন্দর ও রোমাঞ্চক পর্যটন কেন্দ্র। আপনি যদি আপনার বন্ধুদের সাথে বা পরিবারের সাথে একটি সুন্দর দিনের পরিকল্পনা করছেন, তাহেল তার জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।
উদ্যানটি উত্তরবঙ্গের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে। এই জায়গার এলিফ্যান্ট রাইড এবং ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি বেশিরভাগ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সাফারি পেয়ে যাবেন। মিক্সড হারবিভোর সাফারি, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সাফারি, এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার সাফারি, লেপার্ড সাফারি, এভিয়ারি ফুট ট্রেইল এবং লেসার ক্যাট এনক্লোজার ট্রেইল এর মধ্যে কয়েকটি। আপনি আপনার পছন্দ মতো সাফারি বেছে নিতে পারেন।
শিশুরা প্রায় এখানে কিডস পার্কে ভালো সময় কাটায়। এখানে একটি ফুড কোর্ট এবং একটি উপহার সামগ্রীর দোকান ও রয়েছে।
উদ্যানটি মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ৭০০ একর জমির উপর বিস্তৃত বনভূমির একটি অংশ। এটি ঔষধি গাছ এবং ভেষজ সমৃদ্ধ।
২. করোনেশন ব্রিজ (সেবক)
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ২২ কিলোমিটার |
| সময় | সারাদিন |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
করোনেশন ব্রিজ, যা সেবক ব্রিজ নামেও পরিচিত, তিস্তা নদীর উপর বিস্তৃত। এটি প্রতিবেশী দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলাগুলিকে সংযুক্ত করে।
১৯৩৭ সালে রাজা জর্জ এবং রাণী এলিজাবেথের রাজ্যাভিষেকের স্মরণে সেতুটিকে এমন একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। সেতুটির একটি রোমান স্থাপত্য শৈলী রয়েছে। এটি একটি সুন্দর খিলান দ্বারা সমর্থিত এবং সেতুর একটি প্রবেশপথে দুটি বাঘের মূর্তি থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে এটি বাঘ পুল বা টাইগার ব্রিজ নামে পরিচিত।
যে সমস্ত দর্শনার্থীরা সিকিম বা দার্জিলিং যান তারা প্রায়শই তিস্তা নদীর তীক্ষ্ণ খরস্রোত এবং নির্মল নীল জলের সাক্ষী থাকেন। সেইসাথে এই কেন্দ্রে ঘিরে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নির্মলতা পরিদর্শন করার জন্য তারা এই সেতুর কাছে ক্ষণিকের বিরতি নেন।
আপনি দেবী মায়ের আশীর্বাদ পেতে নিকটবর্তী সেভোক কালী মন্দিরেও যেতে পারেন।
৩. হংকং মার্কেট
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ২ কিলোমিটার |
| সময় | সকাল ৯:০০ টা – রাত ৯:০০ টা |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
শিলিগুড়ি একটি চমৎকার ভ্রমণ গন্তব্য এবং এটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের জন্যই নয়, এটি আরো অন্নান্য আকর্ষণের জন্যও বিখ্যাত, যার মধ্যে রয়েছে শপিং মল এবং বাজার।
এখানে অসংখ্য বাজার এবং রাস্তায় আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি হয়, তাই এই স্থানকে বিভিন্ন জায়গার ক্রেতাদের এক পছন্দের সঙ্গমস্থল বলা হয়। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ক্ষুদিরামপলির কাছে হিল কার্ট রোডের হংকং মার্কেট।
হংকং মার্কেট হল শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এটি বেশিরভাগ চীনা আমদানিকৃত পণ্যের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, নেপাল এবং অন্যান্য দেশের আইটেম বিক্রির জন্য পরিচিত। এই মার্কেটে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ইত্যাদি সব কিছু বিক্রির অনেক দোকান রয়েছে, যা স্থানীয় গ্রাহক এবং পর্যটক উভয়ই আকর্ষণ করে।
জামাকাপড়, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স, কম্বল, বিছানার চাদর, সানগ্লাস, টুপি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র এই বাজারে বেশ জনপ্রিয়। চাইনিজ ক্রোকারিজ থেকে শুরু করে চামড়ার পণ্য ও হস্তশিল্পের পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ন্যায্যমূল্যে। আপনি প্রায়শই এখানে ক্রেতাদের দর কষাকষি করতে দেখতে পাবেন।
৪. ইসকন শিলিগুড়ি
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ৪ কিলোমিটার |
| সময় | সকাল ৪:৩০ থেকে ১:০০ টা এবং বিকেল ৪:০০ টে থেকে ৮:৩০ |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম কৃষ্ণ চেতনা কেন্দ্র। এটি একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান এবং সেইসাথে একটি বিশিষ্ট বৈদিক সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্র। একটি সুবিশাল এবং সু-পরিচালিত বাগানের মাঝখানে অবস্থিত।
প্রধান মন্দিরটি বিশুদ্ধতার ও নির্মলতার প্রতীক।
অতীন্দ্রিয় উপাসনার অধিবেশনের পরে, আপনি মনুষ্য-নির্মিত একটি হ্রদে নৌকা যাত্রা করতে পারেন, এবং তার পর যাদুঘর এবং ভগবদ গীতা একাডেমিতে যেতে পারেন। এছাড়াও, এখানে একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে ভারতীয়, ইতালিয়ান, চাইনিজ এবং থাই খাবার পরিবেশন করা হয়।
ISKON-এ ভক্তিবেদান্ত আন্তর্জাতিক বৈদিক সাংস্কৃতিক একাডেমি আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য আগামী প্রজন্মের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। এটি প্রত্যেককে সাংস্কৃতিক, এবং বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলা প্রদান করে।
৫. সেপাই ধুরা চা বাগান
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ৭ কিলোমিটার |
| সময় | সকাল ৯:০০ টা – সন্ধে ৬:০০ টা |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
সিপাহী ধুরা চা বাগান শিলিগুড়ির একটি কম পরিচিত কিন্তু আকর্ষনীও স্থান। শিবখোলা পাহাড়ে অবস্থিত জনপ্রিয় তিন্ধরিয়া চা বাগানের পাশে অবস্থিত এই চা বাগানটি এই অঞ্চলের আদিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আভাস প্রদান করে।
এই চা বাগানটি নিকটবর্তী গ্রাম থেকে সহজেই যাওয়া যায় এবং শিলিগুড়ি থেকে একটি আদর্শ ভ্রমণের পথ তৈরি করে। শীতল বাতাস অনুভব করার এবং একটি সতেজ মর্নিং ওয়াক উপভোগ করার জন্য এটি একটি সুন্দর জায়গা।
আপনি সবুজ বাগানের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে পারেন, তাজা বাতাসে শ্বাস নিতে পারেন এবং মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। আপনি চা-তোলা প্রক্রিয়াটিও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং আপনি তাতে আগ্রহী হলে অংশগ্রহণও করতে পারেন।
৬. সালুগাড়া মনাস্ট্রি
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ৭ কিলোমিটার |
| সময় | সকাল ৫:৩০ টা – সন্ধে ৬:৩০ টা |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
সালুগাড়া মঠ বা মনাস্ট্রি শিলিগুড়ির ব্যস্ত শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সালুগাড়া সেনা ক্যাম্পের কাছে অবস্থিত। এটি একটি তিব্বতি মঠ যা গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল তাশি গোমাং স্তুপা নামে পরিচিত। এটি তিব্বতি লামা, কালু রিনপোচে দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্রোডেন কুঞ্চব চোদে বৌদ্ধ সমিতি এই মঠের রক্ষণাবেক্ষণ করে।
সালুগাড়া মঠের ১০০-ফুট-উচ্চ স্তুপটি শিলিগুড়িতে আসা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলির মধ্যে একটি। এটি আকর্ষণীয় ডিজাইনে সজ্জিত যা দর্শনার্থীদের মোহিত করে।
সালুগাড়া মঠের স্তূপটি সন্ন্যাসীদের দ্বারা পূজনীয় কারণ এখানে পাঁচ ধরনের বৌদ্ধ ধ্বংসাবশেষ আছে বলে জানা গেছে।
মঠের ভিতরে, একটি বিশাল প্রার্থনা চাকা রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীরা মাখনের বাতি দিতে পারে। তিব্বতি ধূপের দীর্ঘস্থায়ী সুবাস আপনার আত্মা এবং ইন্দ্রিয়গুলিকে নিরাময় করবে এবং আপনাকে ধ্যানের জন্য একটি নিখুঁত পরিবেশ পুরস্কৃত করবে।
আপনি এই মঠে যেতে পারেন, বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে, তিব্বতি সংস্কৃতি এবং আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে আরও জানতে।
৭. দুধিয়া
| শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে দূরত্ব | ২৫ কিলোমিটার |
| সময় | সারাদিন |
| টিকেট মূল্য | বিনামূল্যে |
দুধিয়া, শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি মনোরম গন্তব্যস্থল যা প্রশান্তি ও নির্মলতায় মোড়ানো। এটি শিলিগুড়ির কাছে একটি দেখার মতো একটি দর্শনীয় স্থান।
মিরিক-শিলিগুড়ি হাইওয়ের ওপর অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি নদীর ধারে ক্যাম্পিং, স্টারগেজিং, অ্যাঙ্গলিং, গ্রামের সড়ক ধরে হাঁটা এবং ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য।
দুধিয়া একটি আদর্শ পিকনিক স্পট ও এটি বালাসন নদীর পটভূমির অত্যাশ্চর্য দৃশ্যের কারণে জনপ্রিয়।
শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া যাওয়ার রাস্তাটি সবুজ তৃণভূমি এবং একটি পাহাড়ী উপত্যকা পর্যন্ত গাছের ছাউনি দিয়ে আবৃত। এটি একটি প্রাকৃতিক আকর্ষণ সরবরাহ করে। তাই এটি ট্রেকারদের কাছে স্বর্গও। এই স্থানটি একটি গ্রাম্য আভা দিয়ে ভরা যা দর্শনার্থীদের হৃদয়কে মোহিত করে তোলে।
এগুলি শিলিগুড়ির কাছে অবস্থিত কিছু সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান। এই পর্যটন কেন্দ্রগুলি আপনাকে সমস্ত প্রাকৃতিক আনন্দের সাথে আপনার মেজাজকে সতেজ করবে।
বাজার থেকে শুরু করে নদী ও উপত্যকা, শিলিগুড়ির কাছাকাছি সেরা জায়গাগুলির তালিকার এক অদ্ভুত আনন্দ ও প্রশান্তি আছে।
এরকম আরো ভ্রমণের আর্টিকেল পড়ুন
- গড় পঞ্চকোট (পুরুলিয়া) – কোথায় থাকবেন, কি কি দেখবেন জেনে নিন
- বড়ন্তি (পুরুলিয়া) পশ্চিমবঙ্গ – রিসোর্ট, ঘুরে আসার সেরা সময়
- হাওড়া জেলার ৮টি দর্শনীয় স্থান – পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণ
- অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে ঘুরে দেখার ৭টি সেরা পর্যটন কেন্দ্র
- বেনারস শহরের ৭টি হিন্দু ধর্মীয় স্থান যেকানে আপনি ঘুরে আস্তে পারেন
- কলকাতার ৪টি বিখ্যাত হেরিটেজ ক্যাফে যেকানে আপনি ঘুরে আস্তে পারেন
